রবিবার, ১৬ মে ২০২১, ০৯:৩৫ পূর্বাহ্ন



আত্মবিশ্বাসকে সঙ্গী করে নারী ক্রিকেটাররা সিলেট ছাড়ছেন আজ
প্রকাশের সময়ঃ ২০২১-০২-০৪ ১২:৩৪:২৪

বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল যখন সিলেট আছে তখন ছিলো নানা শঙ্কা। এরআগে করোনায় কারণে নয় মাস মাঠে নামতে পারেননি ক্রিকেটাররা। ফলে দুশ্চিন্তা ছিলো তাদের ফিটনেস নিয়ে। অনুশীলনের অভাবে স্কিলেও ঘাটতি দেখা দেওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছিলো।

তবে একমাসের সিলেট সফরে সব শঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছেন সালমা-জাহানারা-জ্যোতিরা। ৩ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এক মাস ক্যাম্পে সিলেটে ৭টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছিলেন তারা। এসব ম্যাচে ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট বিসিবর কর্তারা। আর দীর্ঘ বিরতি শেষে মাঠে নেমেও কেউ ইনজুরির শিকার না হওয়াকে বড় প্রাপ্তি মনে করছেন তারা। আর সিলেটের একমাসের ক্যাম্পে ক্রিকেটাররাও ফিরে পেয়েোছেন আত্মবিশ্বাস। সেই আত্মবিশ্বাস সঙ্গী করেই ঢাকা ফিরছে দল। আজ (৩ ফেব্রুয়ারি) সিলেট ছাড়বে সালমা বাহিনী।

সিলেটে মাসব্যাপী ক্যাম্পে সম্ভাবনাময় নতুন মুখের সন্ধানও পেয়েছেন লাল সবুজের নারী দল। ব্যাটিংয়ে নয়া আস্থা অনুর্ধ্ব ১৯-এর সুমাইয়া। পেস বোলিংয়ে আলো ছড়িয়েছেন পূজা। আর মেঘলার বাঁ হাতি ঘুর্ণিতে সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
 
সিলেট ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টানা এক মাস অনুশিলন শেষে আজ ঢাকা ফিরে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয় নারী ক্রিকেট দল। সামনেই নারী বাংলাদেশ গেইমস। ফলে নিজেদের তৈরী করতে সিলেটে উজাড় করে অনুশীলনে মনোযোগী ছিলেন সালমারা। এছাড়া মার্চে সাউথ আফ্রিকা ইমার্জিন দলের সফরে দলে জায়গা করে নিতে নিজেদের শ্রেষ্টত্ব প্রমাণে সকলেই ছিলেম মরিয়া। ফিটনেস, স্কিল ডেভেলপমেন্ট, ব্যাটিং, ফিল্ডিং সবখানেই ছিল বাড়তি সতর্কতা।   

করোনাকালিন এই সময়েও সর্বোচ্চ সর্তক থেকে জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের ৩২ খেলোয়াড় নিয়ে মাস ব্যাপি এ ক্যাম্প শুরু হয় ৩ জানুয়ারি। ক্যাম্পে হেড কোচের দায়িত্বে ছিলেন ফয়সাল হোসেন ডিকেন্স।

সংশ্লিষ্টরা জানান, শুরুতেই খেলোয়াড়দের ফিটনেস নিয়ে কাজ করেন কোচিং স্টাফরা। দীর্ঘ বিরতির কারণে এনিয়ে বেশ শংকা থাকলেও ফিটনেস ফেরাতে ইনজুনি কোনো বাঁধা হয়নি। স্কিল উন্নয়ন নিয়ে কাজ করা হয় এই ক্যাম্পে।  পরে ৭টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেন ক্রিকেটাররা।

মার্চে মহিলা বাংলাদেশ গেমসের ক্রিকেট খেলার ভ্যানু নির্ধারিত হয়েছে সিলেট ক্রিকেট স্টেডিয়াম। ৭ মার্চ থেকে ১৫ মার্চ বাংলাদেশ জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা ৩টি দলে বিভক্ত হয়ে এই টুর্নামেন্টে খেলবেন। ফলে এই ক্যাম্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে মনে করছেন ক্রিকেট কর্তারা।

এছাড়া, সাউথ আফ্রিকা ইমার্জিন দল মার্চেই আসছে বাংলাদেশ সফরে। খেলবে বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাথে ৫টি ওয়ানডে। সেই টুর্নামেন্টেরও ভ্যানু সিলেট। ফলে মাসব্যাপি এই ক্যাম্প এবং নারী বাংলাদেশ গেমসে সিলেটের মাঠকে আপন করে নেয়ার সূযোগ পেয়েছে জাতীয় দল।

সব মিলিয়ে সালমাদের বিশ্বকাপ কোয়ালিফাইংয়ে অংশ গ্রহণের প্রস্তুতিটা ভালো মতোই এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানালেন বাংলাদেশ জাতীয় নারী ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যান ও বিসিবি পরিচালক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল।

তিনি বলেন, করোনায় ঘর বন্দি থাকায় খেলোয়াড়দের ফিটনেস ধরে রাখা ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এনিয়ে আমরা চিন্তিতও ছিলাম। কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড, কোচ, খেলোয়াড়, অফিসিয়াল, মিডিয়া সকলের সার্বিক সহযোগিতায় আমরা সফলভাবে ক্যাম্পটি শেষ করতে পেরেছি। সবচেয়ে আশার কথা এখানে কেউ ইনজুরির শিকার হয়নি।

অনুশীলন ম্যাচ ও বাংলাদেশ নারী গেমস এ মাঠেই খেলায় স্বগতিক দল হিসাবে বাংলাদেশ দল সাউথ আফ্রিকার ইমার্জিন দলের সাথে বাড়তি সুযোগ পাবে বলেও মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

ফেসবুক পেইজ